সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সোমবার

২৬ অক্টোবর ২০২৬

১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

সন্তান হঠাৎ চুপ হয়ে গেছে? হতে পারে উদ্বেগ

লাইফস্টাইল ডেস্ক: শৈশব মানেই শুধু খেলাধুলা আর আনন্দ নয়; পড়াশোনার চাপ, সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো, বাড়ির কাজ সামলানো কিংবা পরীক্ষায় ভালো করার চাপে ছোটদের মনেও তৈরি হতে পারে নানা উদ্বেগ। অনেক সময় তারা নিজেদের অস্বস্তি মুখে প্রকাশ করতে পারে না। তখন রাগ, কান্না, অস্থিরতা কিংবা হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সেই অনুভূতি প্রকাশ পায়।

এমন পরিস্থিতিতে মা-বাবা অনেক সময় সন্তানকে বকাঝকা করেন বা দ্রুত সমাধান দিতে চান। কিন্তু উদ্বিগ্ন শিশুর প্রথম প্রয়োজন হলো নিরাপত্তা, বোঝাপড়া ও ধৈর্য। শিশুর উদ্বেগের মুহূর্তে মা-বাবা যেভাবে পাশে থাকতে পারেন, তা আলোচনা করা হলো:

১. নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিতে দিন
সন্তান কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত হলে মা-বাবা স্বাভাবিকভাবেই তাকে সমাধানের পথ দেখাতে চান। তবে প্রতিটি সমস্যায় সরাসরি নির্দেশনা না দিয়ে শিশুকে নিজের মতো করে ভাবার সুযোগ দেওয়া জরুরি।

ইউনাইটেড উই কেয়ারের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. ভাসুধা আগরওয়াল জানান, শিশুর অনুভূতি বোঝা এবং বয়স অনুযায়ী নিজে সমস্যা মোকাবিলার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার আগে বারবার চাপ না বাড়িয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করুন কোন বিষয়টি নিয়ে বেশি চিন্তা হচ্ছে। তার কথা শুনে পরিকল্পনা করতে উৎসাহ দিন, তবে সব সিদ্ধান্ত নিজেরা নেবেন না।

২. কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন
কোনো বিষয় নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ তৈরি হলে শিশুর সঙ্গে বসে একটি সহজ পরিকল্পনা তৈরি করা যেতে পারে। যেমন—পড়ার সময় ভাগ করে দেওয়া, মাঝেমধ্যে বিরতি রাখা কিংবা কঠিন অধ্যায়গুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নেওয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু না হলে শিশুকে ব্যর্থ মনে না করিয়ে, কোথায় সমস্যা হয়েছে তা বুঝে নতুনভাবে চেষ্টা করতে উৎসাহ দিন।

৩. সহানুভূতির সঙ্গে কথা বলুন
শিশু উদ্বেগের কথা জানালে তাকে দুর্বল বা ভীতু বলে আখ্যা দেবেন না। ‘এত ভয় পাওয়ার কী আছে?’ এ ধরনের কথা তার অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর পরিবর্তে বলুন, ‘তোমার চিন্তা হচ্ছে, সেটা আমি বুঝতে পারছি’ কিংবা ‘চলো, আমরা একসঙ্গে উপায় খুঁজি।’ এ ধরনের কথায় শিশু বুঝতে পারে, সে একা নয়। একইসঙ্গে তাকে মনে করিয়ে দিন, ভুল করা শেখারই একটি অংশ।

৪. শরীর ও মন শান্ত করার অভ্যাস গড়ে তুলুন
উদ্বেগের সময় শিশুর হৃদ্‌স্পন্দন ও শ্বাস দ্রুত হতে পারে। তাই নিজের শরীরের এসব পরিবর্তন চিনতে শেখানো উপকারী। শিশুকে আরাম করে বসিয়ে ধীরে ধীরে দীর্ঘশ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অনুশীলন করাতে পারেন। বয়স উপযোগী হলে গান শোনা বা অল্প সময় হাঁটাহাঁটিও তাকে স্বস্তি দিতে পারে। শিশু খুব বেশি অস্থির থাকলে জোর করে কোনো অনুশীলন করাবেন না।

৫. আলিঙ্গন ও স্নেহের মাধ্যমে পাশে থাকুন
সন্তান উদ্বিগ্ন বা ভীত হলে মা-বাবার স্নেহপূর্ণ উপস্থিতি তাকে নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। শিশু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে তাকে আলিঙ্গন করা, হাত ধরে রাখা বা পাশে বসে থাকা প্রশান্তি আনে। তবে সব শিশু একইভাবে স্নেহ প্রকাশ পছন্দ করে না। তাই শিশুর ইচ্ছা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিন এবং বুঝিয়ে দিন যে প্রয়োজনে আপনি তার পাশেই আছেন।

কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন?
শিশুর মধ্যে মাঝেমধ্যে উদ্বেগ দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে উদ্বেগ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা, ঘুম, খাওয়াদাওয়া বা মেলামেশায় বাধা সৃষ্টি করে, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এ ক্ষেত্রে শিশু বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শিশুকে উদ্বেগ থেকে দূরে রাখার অর্থ তার জীবনের সব চ্যালেঞ্জ সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং তাকে নিজের অনুভূতি বুঝতে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামলাতে শেখানোই সবচেয়ে বড় উপায়। মা-বাবার ধৈর্য ও সহমর্মিতাই পারে একটি শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে।