বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বুধবার

২৮ অক্টোবর ২০২৬

১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, রেল যোগাযোগ ও বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (BIG-B) উদ্যোগসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর জাপান সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে বলেছেন, এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

তিনি জানান, বৈঠকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এই অংশীদারত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগে রূপান্তর করা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার) জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এসব বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করবে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে এবং তরুণ কর্মশক্তির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী একটি ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ ছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে সহযোগিতা এবং দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপন ও আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, শীর্ষ বৈঠকের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (Bay of Bengal Industrial Growth Belt; BIG-B) উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার। এই সহযোগিতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মনে করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (EPA) দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণভাবে ও টেকসইভাবে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের অব্যাহত ও সক্রিয় সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাপান সফর ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জাপান বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর অন্যতম। স্বাধীনতার পর থেকে উন্নয়নযাত্রার প্রতিটি পর্যায়ে দেশটি বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পাশে থেকেছে। এর জন্য বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ যখন নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তাঁর সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থবহ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। উষ্ণ আতিথেয়তা ও বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত আস্থার জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, বাংলাদেশ ও জাপানের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও শক্তিশালী করি এবং একসঙ্গে একটি অধিকতর শক্তিশালী, উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।”