মঙ্গলবার
০৩ নভেম্বর ২০২৬
১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


স্টাফ রিপোর্টার: শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক, মানসিক ও বাক্বিকাশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, শিশুদের কথা বলতে বিলম্ব বা স্পিচ ডিলে সমস্যার পেছনে শারীরিক, স্নায়বিক, শ্রবণজনিত, গঠনগত ও বিকাশগত বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
এসব সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর জাকির হোসেন রোডে অবস্থিত SAHIC চট্টগ্রাম সাব-সেন্টারের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ), চট্টগ্রাম শাখা এবং SAHIC চট্টগ্রাম সাব-সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্পিচ ডিলে ইন চিলড্রেন’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শিশুদের জন্মকালীন জটিলতা ও মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে বিকাশগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ ক্ষেত্রে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রসবকালীন ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের শ্রবণশক্তি ও বাক্বিকাশের সমস্যা নির্ণয়ে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত শ্রবণ পরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্রেইনস্টেম অডিটরি ইভোকড রেসপন্স (বিএইআর) পরীক্ষাসহ আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামে নিউরোফিজিওলজি ও ইলেক্ট্রোডায়াগনস্টিক পরীক্ষার বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি প্রবর্তনে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
SAHIC-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রশাসক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিশু, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্নায়বিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা দিয়ে আসছে।
এ ধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামে চিকিৎসাসেবার বিকাশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন।
নগরীর রেলওয়ের জায়গায় মেডিকেল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার ফলে বর্তমানে ওই এলাকায় বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি প্রয়াত অধ্যাপক নুরুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নগরীর উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। চিকিৎসা ও মানবসেবায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু স্নায়ুরোগ ও বিকাশ বিশেষজ্ঞ ডা. আনজির আনোয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিপিএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ এ চৌধুরী (আরজু)। সভাপতিত্ব করেন SAHIC চট্টগ্রাম সাব-সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল আলীম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিপিএ চট্টগ্রাম শাখার সদস্য ডা. বেলাল উদ্দিন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল আলীম বলেন, SAHIC একটি অলাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং সামনের ড্রেন নির্মাণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। এ জন্য তিনি প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের সামনে কিছু দোকান ও আড্ডাকে কেন্দ্র করে রোগী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদারের জন্য প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন।
সেমিনারে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের শিশু বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।