বৃহস্পতিবার
০৫ নভেম্বর ২০২৬
২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীর যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১টি মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। বাকি ৩০টি মাঠও পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, নগরীতে ৪০টি ফুটসাল মাঠ নির্মাণ এবং বিভিন্ন এলাকায় আরও ৪০ থেকে ৫০টি খেলার মাঠ সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ করে দিয়ে একটি সুন্দর, সুস্থ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে নগরীর পাহাড়তলী বাজারস্থ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ক্লাব মাঠে ‘মরহুম জালাল উদ্দীন সোহেল স্মৃতি উন্মুক্ত মিনিবার নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং সমাজের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে তরুণ ও কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, দুই বছর আগে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। বাকি মাঠগুলোও গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ফুটসাল মাঠ নির্মাণ ও বিদ্যমান মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের সম্ভাবনা তুলে ধরে চসিক প্রশাসক বলেন, একসময় এ নগরী থেকে জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার ও ক্রিকেটার উঠে এসেছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত মাঠ ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।
এ অবস্থা পরিবর্তনে চসিক বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। ভবিষ্যতেও মেয়র কাপসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। হামজা চৌধুরীর মতো আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকেই খেলোয়াড় গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা বিদেশি দলের পতাকার পরিবর্তে দেশের লাল-সবুজের পতাকা ধারণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখুক—এটাই প্রত্যাশা। চট্টগ্রামের খেলার মাঠ থেকেই একদিন বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হবে, যারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতি ও ইনজুরি প্রতিরোধের বিষয়ে নিজের চিকিৎসক পরিচয় তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফুটবলসহ যেকোনো খেলায় অংশগ্রহণের আগে পর্যাপ্ত ওয়ার্মআপ, স্ট্রেচিং ও কন্ডিশনিং এক্সারসাইজ করা জরুরি। এতে পেশির আঘাতের ঝুঁকি কমে। খেলাধুলার সময় পেশিতে আঘাত পেলে যথাযথ প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মরহুম জালাল উদ্দীন সোহেলের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, সোহেল ছিলেন একজন সাহসী ছাত্রনেতা। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর বাসায় শেষবারের মতো খাবার খেয়েছিলেন। বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি তাঁর কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক স্মৃতি।
মরহুমের স্মৃতি ধরে রাখতে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তিনি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদে আল নোমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, পাহাড়তলী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী বাবুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন জিয়া, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন।
এ ছাড়া ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক খাজা আলাউদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মজু, সদস্যসচিব ফখরুল হাসান রাজু, মরহুম জালাল উদ্দীন সোহেলের বড় ভাই জামাল উদ্দিন বাবু ও আনোয়ার হোসেন এরশাদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়াঙ্গনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়তলী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সালাউদ্দিন রাসেল মির্জার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আয়োজক, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়ানুরাগী ও বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।