বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

বুধবার

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে নতুন বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে চীন ও ভারতই ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের ‘প্রধান অর্থদাতা’।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ট্রাম্প বলেন, “চীন ও ভারত রাশিয়ার তেল কিনে চলেছে। তারা যুদ্ধের মূল অর্থ জোগাচ্ছে।”

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মস্কোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর ‘দ্বিতীয়িক নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। তার মতে, এতে রাশিয়ার ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে। তবে এই নীতিকে চীন ও ভারত আগেই ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের চাপের কাছে তারা নত হবে না।

ন্যাটো ও ইউরোপকেও কটাক্ষ

ভাষণে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকেও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “যারা রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কিনছে অথচ একইসঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তারা কার্যত নিজেদের বিপক্ষে যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে।”

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, ভারত ও চীনের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে। তবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন জানিয়ে দেন, ইউরোপ নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক যুদ্ধ

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এতে অধিকাংশ ভারতীয় পণ্যে মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, নয়াদিল্লি রুশ তেল আমদানি কমাতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে এ বছরের শুরুতে শুরু হওয়া মার্কিন-চীন শুল্কযুদ্ধ সাময়িক বিরতিতে থাকায় বেইজিংয়ের ওপর নতুন কোনো শুল্ক এখনো আরোপ করা হয়নি।

ভারতের অবস্থান

ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ঘোষণা দেন, ভারত রুশ তেল কিনতে থাকবে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি ৫.৬ শতাংশ বেড়ে দৈনিক ১৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

চীনের প্রতিক্রিয়া

চীন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, সব দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা করা তাদের বৈধ অধিকার।

সম্প্রতি বেইজিং সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও পশ্চিমাদের সতর্ক করে বলেন, চীন ও ভারতের প্রতি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা আসলে তাদের অর্থনৈতিক উত্থান ঠেকানোর ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’।