মঙ্গলবার
০৭ অক্টোবর ২০২৫
৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএএ)-এর ২০২৫-২৭ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ অক্টোবর। ভোটগ্রহণ হবে চট্টগ্রামের টাইগার পাসস্থ নেভি কনভেনশন সেন্টারে। এবারের নির্বাচনে মোট ২৪টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৩ জন প্রার্থী।
ঐক্য পরিষদ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল হিসেবে ২৪টি পদের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
চেয়ারম্যান পদে: ক্যাপ্টেন মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী (নাফ মেরিন সার্ভিস), সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে: আজিম রহিম চৌধুরী (কে এম সি শিপিং লাইন), মো. আলী আকবর (সেভেন সীজ শিপিং লাইন্স), ভাইস চেয়ারম্যান পদে: মো. মশিউল আলম স্বপন (এ.এ. শিপিং সার্ভিসেস), ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ (মার্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস), এছাড়া পরিচালক (জেনারেল ও অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরি) পদে নাম ঘোষণা করেছেন শিপিং খাতের সুপরিচিত ১৯ জন উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপক।
ঐক্য পরিষদের নেতারা দাবি করেছেন, তাদের অভিজ্ঞ ও ঐক্যবদ্ধ প্যানেল বিএসএএ-কে আরও গতিশীল ও কার্যকর করবে।
সীমিত প্রার্থী নিয়ে সম্মিলিত পরিষদ
অন্যদিকে সম্মিলিত পরিষদ এবারের নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা মাত্র ৮টি পদে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পেরেছে।
চেয়ারম্যান পদে: আহসান ইকবাল চৌধুরী আবির (ইন্টারমডেল পিটিই লিমিটেড), সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে: মো. আব্দুল মালেক (বেঙ্গল শিপিং লাইন লি.), জহুর আহমেদ (সীকম শিপিং লাইনস), ভাইস চেয়ারম্যান পদে: আকতার কামাল চৌধুরী (সিনোবেন শিপিং কো. লি.), পরিচালক পদে আরও ৪ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে সম্মিলিত পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবির সম্প্রতি প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এতে তাদের প্রার্থী তালিকা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী
চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএসএএ-এর সাবেক চেয়ারম্যান (২০১৯–২১) আহসানুল হক চৌধুরী (ভেগা মেরিন প্রা. লি.)।
কেন পিছিয়ে পড়ল সম্মিলিত পরিষদ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন বিধান অনুযায়ী, পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারীরা এবারে প্রার্থী হতে পারেননি। এই নিয়মে সম্মিলিত পরিষদের গত বোর্ডের ২৪ পরিচালক থেকে ২২ জন অযোগ্য হয়ে পড়েন। ফলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল গঠন সম্ভব হয়নি।
শিপিং মহলে আলোচনা চলছে—সম্মিলিত পরিষদের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনে টিকে থাকতে না পেরে তারা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চাইতে চেয়েছিল, তবে সফল হয়নি।
ঐক্য বনাম বিভক্তি: ভোটারদের নজরে মূল লড়াই
ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ এখন অপপ্রচার ও কৌশলে মাঠে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐক্য পরিষদের একজন প্রার্থী বলেন— “আমরা বিশ্বাস করি, সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে নোংরা রাজনীতির জবাব দেবেন। ঐক্য, সততা ও পরিবর্তনের প্রতীক ‘ঐক্য পরিষদ’-কেই বিজয়ী করবেন।”
অন্যদিকে ভোটাররা বলছেন, এবার নির্বাচন হবে প্রার্থীদের কর্মদক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে।
শিপিং মহলের দৃষ্টি টাইগার পাসে
৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে শিপিং মহলে ইতোমধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই মনে করছেন, এবার ঐক্য পরিষদ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সই নির্ধারণ করবে কে পাবে বিএসএএ-র হাল।