শনিবার
১৮ অক্টোবর ২০২৫
২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতেই নতুন করে রক্ত ঝরল আফগানিস্তানের কান্দাহারে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুরে কান্দাহার প্রদেশের সীমান্তঘেঁষা স্পিন বোলদাক শহরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এতে অন্তত ৪০ জন নিহত ও আরও ১৭০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ জানায়, নিহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। প্রদেশের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করিমুল্লাহ জুবাইর আগা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে টানা সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলার পর ১৫ অক্টোবর থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কার্যকর হয় যুদ্ধবিরতি। তবে মেয়াদ শেষ হতেই ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে পাকিস্তান নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে।
হামলার শিকার হাজি বাহরাম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমি এমন নির্মমতা কখনও দেখিনি। যারা নিজেদের মুসলমান বলে দাবি করে, তারা নারী ও শিশুদের ওপর বোমা ফেলছে।”
বিমান হামলার পাশাপাশি স্পিন বোলদাকের নোকলি, হাজি হাসান কেলাই, ওয়ার্দাক, কুচিয়ান, শহীদ ও শোরবাক এলাকাগুলোতে পাকিস্তানি স্থলবাহিনী আর্টিলারি গোলা নিক্ষেপ করে। এতে বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ধ্বংস হয়, হতাহত হয় আরও অনেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু পাকিস্তানের তালেবানপন্থী সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। কয়েক বছর আগে নিষিদ্ধ হওয়া এই গোষ্ঠী এখন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর টিটিপি আরও সক্রিয় হয়। পাকিস্তানের দাবি, আফগান তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে—যা কাবুল বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের বিমান হামলায় কাবুলে টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ নিহত হন। তার পরদিন থেকেই দুই দেশের সীমান্তে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। চার দিন যুদ্ধ চলার পর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি শেষ না হতেই আবারও রক্তাক্ত হলো সীমান্তের স্পিন বোলদাক।