সোমবার
২৭ অক্টোবর ২০২৫
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: শাপলা প্রতীক না পেলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির জেলা ও উপজেলা কমিটির সমন্বয় সভার মধ্যাহ্ন বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি বলেন, “শাপলা প্রতীকের জন্য যদি এনসিপিকে রাজপথের কর্মসূচিতে যেতে হয়, তাহলে এনসিপি একই সঙ্গে এই স্বেচ্ছাচারী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আন্দোলনেও যাবে। ইসি এখনো পর্যন্ত তাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ কথায় ও কাজে দিতে পারেনি।”
সারজিস আলমের অভিযোগ, “আইনগতভাবে শাপলা প্রতীক পেতে এনসিপির কোনো বাধা নেই। তবুও ইসি স্বেচ্ছাচারিতা করছে এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। আমরা অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “তারা যদি স্বাধীনভাবে কাজ না করে, তাহলে আগামীর নির্বাচনে তাদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন হবে। তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে বাস্তবে, শুধু কথায় নয়।”
তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, “আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াত এককভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে না। সেই জায়গায় তরুণ প্রজন্মের এনসিপির ভূমিকা অপরিহার্য।”
তিনি আরও জানান, জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যদি এনসিপি নির্বাচনে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ‘শাপলা প্রতীক’ নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দলটি।
সম্ভাব্য জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান, আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াই—এই নীতিতে যেসব দল অঙ্গীকারবদ্ধ, কেবল তাদের সঙ্গেই এনসিপি নির্বাচনি জোট করতে পারে।”
এ সময় সারজিস আলম বলেন, “আমরা এখনো আপোষহীন। অন্যান্য দল শুধু নির্বাচনের জন্য জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। প্রধান উপদেষ্টা যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিয়ে আদেশ দেন, তখনই এনসিপি তাতে স্বাক্ষর করবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহনাফ সাঈদ খান। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, সংগঠক খায়রুল কবির, সাঈদ উজ্জ্বল, কেন্দ্রীয় সদস্য দিদার শাহ প্রমুখ।