শুক্রবার
৩১ অক্টোবর ২০২৫
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল থেকে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের ৪৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ও বিকেলে একাধিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি জানান, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো রাজধানীতে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল আয়োজন করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। এরই প্রেক্ষিতে শেরেবাংলা নগর, উত্তরা, বাড্ডা, বনানী, তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
গ্রেপ্তারদের মধ্যে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ১৮ জন, সিটিটিসি ১৩ জন, খিলক্ষেত থানা ৪ জন, উত্তরা পশ্চিম থানা ২ জন, বাড্ডা ৩ জন, বনানী ৩ জন এবং তেজগাঁও থানা ৩ জনকে আটক করে।
ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তাররা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তাদের বেশিরভাগই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছিল মিছিলে যোগ দিতে।” তিনি জানান, আটককৃতদের মধ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সিলেট, ফেঞ্চুগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বগুড়া, বরগুনা ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ৯০-১০০ জনের একটি দল মিছিলের প্রস্তুতি নিলে শেরেবাংলা নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
মিছিলের নামে ‘অপতৎপরতা’ রোধে ডিএমপি তৎপর রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। তারা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা গণগ্রেপ্তার নয়। ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণের সময় যাদের পাওয়া যাচ্ছে, তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রমাণ মিললে মামলা করা হচ্ছে।”
তালেবুর রহমান জানান, মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারীদের আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। “ঢাকার বাইরে থেকে এসে কেউ বিনা খরচে মিছিলে অংশ নেবে না। আর্থিকভাবে ‘মোটিভেট’ করা হচ্ছে। যারা প্রণোদনা দিচ্ছে, তাদেরকেও চিহ্নিত করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ঝটিকা মিছিল থেকে প্রায় ৩ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। “আমরা সতর্ক রয়েছি। নির্বাচন সামনে—তাই রাজনৈতিক তৎপরতা কিছুটা বাড়ছে। তবে ডিএমপি যেকোনো অপতৎপরতা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”