রবিবার
০২ নভেম্বর ২০২৫
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: বাংলাদেশ বিমানবাহিনী চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো আনম্যানড এরিয়াল ভেহিক্যাল (ইউএভি) বা ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপন করছে। এটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কারখানা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে।
গণমাধ্যমে দেখা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক কার্যবিবরণীতে এই তথ্য উঠে এসেছে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমন্বয় সভায় বিমানবাহিনীর প্রতিনিধি ও প্রতিরক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, চীন বাংলাদেশে একটি বিমান ওভারহলিং কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত ডিফেন্স ইকোনমিক জোন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত পণ্য দেশেই উৎপাদন করা যায়।
বিডা সূত্রে জানা গেছে, এই খাতে সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, দুই বছর আগে বাংলাদেশ অ্যারোনোটিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (BARDC) নিজস্ব নকশায় চারটি বিমান তৈরি ও সফলভাবে উড্ডয়ন করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার বাণিজ্যিকভাবে স্পোর্ট এয়ারক্রাফট ও ইউএভি উৎপাদনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বে বিমান সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এভিয়েশন টেকনোলজিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যুক্ত হলে এই খাতে বিপুল উন্নয়ন সম্ভব।”
চীনের প্রস্তাবিত ওভারহলিং সেন্টার সম্পর্কে আরেক কর্মকর্তা বলেন, “বিমানবাহিনীর বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামোর সঙ্গে সামান্য প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম যুক্ত করলেই ব্যবহৃত বিমানের ইঞ্জিন ওভারহলিং করা সম্ভব। প্রতিবেশী দেশগুলোও একই মডেলের বিমান ব্যবহার করে বলে বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়া সহজ হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে একটি বড় অগ্রগতি অর্জন করবে।