সোমবার
২৪ নভেম্বর ২০২৫
১৩ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


নিউজ ডেস্ক: মানুষের গুনাহ শুধু আখেরাতের শাস্তির বিষয় নয়—অনেক পাপ আছে যার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করেন। যেন মানুষ সজাগ হয়, তাওবার দিকে ফিরে আসে এবং ধ্বংস থেকে রক্ষা পায়।
কুরআন ও সুন্নাহতে স্পষ্টভাবে এসেছে—মানুষের কৃতকর্মের ফলেই অনেক সংকট, বিপদ, দুর্ভোগ ও অশান্তি দুনিয়ায় নেমে আসে।
কুরআনের আলোকে দুনিয়ার শাস্তির কারণ
১. মানুষের গোনাহে বিপর্যয় দেখা দেয়
আল্লাহ তাআলা বলেন— “স্থলে ও সাগরে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের নিজেদের কৃতকর্মের কারণে।” (রুম ৪১)
২. পাপ বাড়লে সংকটও বাড়ে
“তোমাদের ওপর যে বিপদ আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মের ফল।” (শুরা ৩০)
৩. সমাজে অন্যায় হলে আল্লাহর গজব নেমে আসে
“আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা বদলান না, যতক্ষণ না তারা নিজেরাই নিজেদের বদলায়।” (রাদ ১১)
৪. সুদ জীবনে অশান্তি ও ধ্বংস ডেকে আনে
“আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন এবং সদকা বৃদ্ধি করেন।” (বাকারা ২৭৬)
হাদিসের আলোকে যে গুনাহের শাস্তি দুনিয়াতেই আসে
৫. বাবা-মায়ের অবাধ্যতার শাস্তি
রসুল (সা.) বলেন— “জুলুম ও বাবা-মায়ের অবাধ্যতার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করেন।” (তাবারানি)
৬. অত্যাচারীর পরিণতি দ্রুত হয়
রসুল (সা.) বলেন— অত্যাচারীকে আল্লাহ সময় দেন, কিন্তু ধরলে আর ছাড়েন না। (বুখারি, মুসলিম)
৭. ব্যভিচার নতুন রোগ-বালাই ছড়ায়
ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যে অজানা রোগ-মহামারি দেখা দেয়। (ইবনে মাজাহ)
৮. পাপ রিজিক বন্ধ করে দেয়
“মানুষ অনেক সময় গোনাহের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।” (ইবনে মাজাহ)
কেন দুনিয়ার শাস্তি আল্লাহর রহমত
আল্লাহ দুনিয়ায় শাস্তি দেন ধ্বংসের জন্য নয়, বরং—
আত্মাকে জাগিয়ে তোলার জন্য
মানুষকে তাওবার পথে ফেরাতে
বড় শাস্তির আগে সতর্ক করতে
হারানো বরকত ফিরিয়ে দিতে
বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনতে
সব বিপদ–আপদ পাপের ফল নয়; কিন্তু অনেক বিপদ হয় সতর্কবার্তা—যাতে মুমিন নিজেকে ঠিক করে, তাওবা করে, ইস্তিগফার করে।
শেষে মুমিনের দোয়া—
اللَّهُمَّ ارْزُقْنَا تَوْبَةً نَصُوحًا وَاعْفُ عَنَّا يَا رَحْمٰنُ
হে আল্লাহ! আমাদেরকে গ্রহণযোগ্য তাওবা দান করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন, হে পরম দয়ালু।