রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার

০১ ডিসেম্বর ২০২৫

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

ছাগল খেয়েছে ধান- চাষিই পড়লেন গুলির মুখে

কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীতে ছাগলের ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ক্ষেতের মালিকই পড়লেন গুলির মুখে।

অনলাইন ডেস্ক : রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মোহাম্মদ শরিফ পিএমখালীর ছনখলা উত্তর নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল করিমকে স্থানীয়রা ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে পাঁচ দিন আগে। মোহাম্মদ শরিফের ক্ষেতের ধান খেয়ে ফেলে প্রতিবেশি আব্দুল করিমের পালিত একটি ছাগল। এ সময় শরিফ ছাগলটিকে বেতের বাড়ি দিয়ে ক্ষেত থেকে তাড়িয়ে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাগলের মালিক আব্দুল করিম ক্ষিপ্ত হন এবং শরিফের বিরুদ্ধে বিচার দেন।

শরিফের স্ত্রী শফিকা অভিযোগ করে বলেন, সেই ক্ষোভ থেকেই রবিবার সন্ধ্যায় আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায় করিম। এরপর তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তবে নিহতের স্ত্রী শফিকার দাবি, হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

নিহতের প্রতিবেশী সাইফু জানান, করিম মূলত একজন রোহিঙ্গা। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তাকে দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করিয়ে থাকে।

সাইফু আরও বলেন, ‘করিম আগেও দুটি হত্যা মামলার আসামি। সে এর আগে খুরুশকুলে একটি টমটম (ইজিবাইক) চালককে জবাই করে হত্যা করেছিল। সুযোগ পেয়ে সে আবারও এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমার বাড়ির পাশেই তার অবস্থান, সকাল-বিকেল তাকে দেখা যেত। এমন একজন অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় আমরা আতঙ্কিত।’

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।