সোমবার
০১ ডিসেম্বর ২০২৫
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: ফিলিপাইনে জলাশয় নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো প্রকল্পে ‘ট্রিলিয়ন-পেসো দুর্নীতি’–র অভিযোগ ঘিরে প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঠেকানো যাচ্ছে না। রোববার (৩০ নভেম্বর) রাজধানী ম্যানিলায় হাজারো মানুষের মিছিল রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।
কিলুসাং বায়ান কোন্ত্রা-কোরাকোট (কেবিকেক) আন্দোলনের ব্যানারে লুনেটা ন্যাশনাল পার্ক থেকে মালাকানিয়াং প্রাসাদমুখী বিশাল মিছিলে আয়োজকদের দাবি—২০ হাজারেরও বেশি মানুষ যোগ দেন। অনেকে মার্কোস ও ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের মুখোশ পরে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কুমির’ প্রতিকৃতি টেনে রাস্তায় প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: “মার্কোস পদত্যাগ করো”, “সব দুর্নীতিবাজকে জবাবদিহি করো।”
অভিযোগ ওঠে—বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে বিলিয়ন পেসো ঘুষ নেওয়া হয়েছে, অনেক প্রকল্প ভুয়া দেখানো হয়েছে এবং নিম্নমানের নির্মাণে বিপুল সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে। সাম্প্রতিক দুই টাইফুনে ২৫০ জনের মৃত্যু জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। ইতোমধ্যে সরকারের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সাবেক আইনপ্রণেতা জালদি কো দাবি করেন—মার্কোস নিজে তাকে বাড়তি বাজেট অনুমোদনে চাপ দেন এবং তিনি ১০০ কোটি পেসো নগদ টাকা মার্কোসের বাসভবনে পৌঁছে দেন। কো বর্তমানে পলাতক—তার শেষ অবস্থান জাপানে।
মার্কোস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অনলাইনে যে কেউ কিছু বলতে পারে। সত্যিই কিছু থাকলে দেশে ফিরে আসুক।”
সেপ্টেম্বরে পুলিশি দমন-পীড়নের পরও বিক্ষোভে যোগ দেন ছাত্র ম্যাট ভোভি ভিলানুয়েভা। তিনি দাবি করেন—৩০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হওয়া সেদিন তিনি পাঁচ দিন আটক ছিলেন। তার মতে, “ন্যায়বিচারের জন্য মার্কোস ও দুতার্তের পদত্যাগ জরুরি।”
ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তে—সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মেয়ে—তিনিও সরকারি তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগের মুখে আছেন।
এদিকে মূলধারার বিরোধীদল ও ক্যাথলিক চার্চের সমর্থনে ইডিএসএ অ্যাভিনিউতে আলাদা ‘ট্রিলিয়ন পেসো মার্চ’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হন। তারা দুতার্তের পদত্যাগ দাবি করলেও মার্কোসের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার কথা জানান।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ভবনের চারপাশে ১২ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মালাকানিয়াংয়ের প্রবেশপথ থেকে এক ব্লক দূরে বিক্ষোভকারীরা আটকা পড়ে এবং মার্কোসের প্রতিকৃতি ছিঁড়ে স্লোগান দেন—“সব দুর্নীতিবাজকে কারাগারে পাঠাও।”
বামধারার নেতা রেমন্ড পালাতিনোর দাবি—মার্কোস বাজেট অনুমোদন করেছেন, তাই দুর্নীতির দায় এড়াতে পারেন না। তিনি দুই নেতার পদত্যাগ ও বেসামরিক অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান। তবে প্রেসিডেন্ট অফিস এসব দাবি ‘অসংবিধানিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
মার্কোস দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ‘ইনডিপেনডেন্ট কমিশন ফর ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (আইসিআই) গঠন করলেও প্রশ্ন থেকে গেছে। কমিশন ৯ হাজারের বেশি প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে। শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পেই ২০২৩ সাল থেকে ১১৮.৫ বিলিয়ন পেসো অপচয় হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় মার্কোসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মার্টিন রোমুয়ালদেজ স্পিকার পদ ছাড়তে বাধ্য হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত দমন-পীড়ন ও পরপর কেলেঙ্কারির কারণে সরকার দ্রুত বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।