শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

১১ ডিসেম্বর ২০২৫

২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

চট্টগ্রাম বন্দরে চাঁদাবাজির অভিযোগ—‘কারা নিচ্ছে টাকা?’ জানতে চাইলেন মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সিসিসির জনসংযোগ শাখার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রচারিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বন্দরকে ঘিরে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করা হয়েছে— চট্টগ্রামবাসীর জানার অধিকার আছে, কারা সেই চাঁদাবাজ?

মেয়র জানান, নৌপরিবহন উপদেষ্টা সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেছেন, প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দরে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়। এ প্রসঙ্গে মেয়র ফোন করে জানতে চাইলে উপদেষ্টা তাকে জানান, তিনি বিগত মেয়রদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন, বর্তমান মেয়রকে নয়। তবে চাঁদাবাজি কারা করছে— সেই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। মেয়র শাহাদাত বলেন, “দুই কোটি টাকা যদি প্রতিদিন চাঁদাবাজি হয়, তাহলে মাসে ৬০ কোটি, বছরে ৭২০ কোটি টাকা। এত বিপুল অর্থ কোথায় যাচ্ছে? কারা সংগ্রহ করছে? উপদেষ্টা নাম বললেই আমরা ব্যবস্থা নেব।”

তিনি আরও বলেন, “আমি মেয়র হিসেবে ঘোষণা করছি, চট্টগ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এসব চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দাঁড়াব।”

এ বিষয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিনই অবৈধভাবে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়। তার ভাষ্য— “মিনিমাম দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা প্রতিদিন ওঠে। গাড়ির স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বন্দরের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি চলছে। কেউ না কেউ এই টাকার ভাগ নিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “চিটাগং পোর্ট এখন সোনার ডিম পাড়া মুরগি। অনেকে শুধু সুবিধা নিতে চায়। আমরা কাজ শুরু করার পর এখন আগের চেয়ে গতি বেড়েছে, একদিন বা দেড় দিনের কাজ এখন আরও কম সময়ে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদেরও সুবিধা হচ্ছে।”

চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব চাঁদা আদায়ে কারা জড়িত— সে বিষয়ে এখনো কোন নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ হয়নি। চট্টগ্রামবাসী বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইলেও এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে অপেক্ষারত দৃষ্টি।