মঙ্গলবার
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে কোনো ধরনের বাধা এলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তা সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পরাজিত শক্তির সব অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সন্ত্রাস কিংবা রক্তপাতের মাধ্যমে এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না। পরাজিত ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী শক্তির যেকোনো অপচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করেছে। কয়েক ডজন পুরোনো আইন সংশোধনের পাশাপাশি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এসব সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ, যা মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার নিশ্চিত করতে আদেশ আকারে জারি করা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে এখন নাগরিকদের অনুমোদনের পালা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সিদ্ধান্ত অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথরেখা এখান থেকেই সূচিত হবে। একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের দিনে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জনগণ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত জানাবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে।
ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গণভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে রাষ্ট্রের চরিত্র, কাঠামো ও অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনা।
নির্বাচনকে উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোট শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি নতুন রাষ্ট্র গঠনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ভোটের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের মালিকানা নিশ্চিত হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে একে অপরকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখবেন, শত্রু হিসেবে নয়। একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে ড. ইউনূস বলেন, যারা ভোট বাক্স ডাকাতি করবে তারা জনগণের স্বাধীনতার শত্রু। ভোট রক্ষা করা মানেই দেশ রক্ষা করা।
তিনি আরও বলেন, ভোট দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গাড়ির চাকা—এই চাকা কাউকে চুরি করতে দেওয়া যাবে না। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে প্রয়োজনীয় রদবদল করা হয়েছে, যা যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই করা হয়েছে।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রথমবারের মতো লাখ লাখ প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং এই প্রক্রিয়া আর থামবে না।
সবশেষে তিনি বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে নতুন বাংলাদেশের পথচলা।