শুক্রবার
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর সমাধির পাশে সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, শহীদ হাদির মরদেহ বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দর থেকে হিমাগারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। হিমাগারে মরদেহ রেখে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেবেন।
পোস্টে আরও বলা হয়, পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে শহীদ হাদিকে কবি নজরুলের সমাধির পাশে দাফন এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী আজকের পরিবর্তে আগামীকাল মিছিলসহ মরদেহ সেন্ট্রাল মসজিদে আনা হবে।
ইনকিলাব মঞ্চ ছাত্র-জনতাকে আজ ও আগামীকাল শৃঙ্খলার সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কোনো গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে আন্দোলন স্তিমিত করতে বা সহিংসতার সুযোগ নিতে না পারে। একই সঙ্গে মরদেহ দেখার কোনো সুযোগ থাকবে না জানিয়ে সবার কাছে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও শহীদ হাদির জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হাদির মরদেহ নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছায়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে ফ্লাইটটি চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে মরদেহ বের করা হয়। কফিন বহনের জন্য সেখানে একটি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
বিমানবন্দর থেকে মরদেহ রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট-এর হিমঘরে নেওয়া হয়। শুক্রবার রাতে সেখানেই কফিন রাখা হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগে অংশ নেওয়ার সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শহীদ হন।