সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

হাদিকে হত্যার পর পালানোর নেপথ্য কাণ্ড–ডিবির তদন্তে তথ্য উন্মোচিত

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর খুনিদের নিরাপদে সীমান্ত পার করানোর একটি সুপরিকল্পিত নেটওয়ার্কের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তদন্তে উঠে এসেছে, পালানোর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী। তাকে সহযোগিতা করেন ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম, যাকে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত পুলিশ ও র‍্যাবের হাতে মোট ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের রাতেই প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ ঢাকা ছাড়েন এবং একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে পৌঁছান। এখান থেকেই তারা অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান। এই সীমান্ত পারাপারের পুরো ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করেন যুবলীগ নেতা তাইজুল।

তদন্তে জানা গেছে, ওই রাতে আমিনুল ফিলিপ নামের একজন দালালের মাধ্যমে ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত পার করান। ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থের বিনিময় সম্পন্ন হয় তাইজুলের নির্দেশে। পরে ফিলিপের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমিনুল ইসলামের সঙ্গে ফিলিপ ও তাইজুলের একাধিক ফোনালাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমিনুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে আহত করা হয়। তাকে প্রথমে ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় মসজিদের পাশে দাফন করা হয়।