বৃহস্পতিবার
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সময় এসেছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। এমন একটি বাংলাদেশ আমরা চাই, যেখানে মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা চায় যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হোক। একটি রাষ্ট্র তখনই এগিয়ে যায়, যখন সেখানে আইনের শাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানে পাহাড়-সমতল, নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণ, কৃষক-শ্রমিক, প্রতিবন্ধী মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা তার সন্তানের জন্য দেখেন—একটি নিরাপদ বাংলাদেশ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটিরও বেশি তরুণ, প্রায় পাঁচ কোটি শিশু এবং প্রায় ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন। কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক এই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা রয়েছে রাষ্ট্রের কাছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে ইনশাআল্লাহ এই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা সম্ভব।
দেশে ফিরে আসার বিষয়ে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরেছি। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসাই আমাকে এই শক্তি দিয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। ৭৫ ও ৭ নভেম্বর এবং ৯০-এর গণআন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ বারবার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে।
ওসমান হাদি হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সাহসী সদস্য ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। তিনি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ৭১-এর শহীদ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত মানুষ এবং ২০২৪ সালের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এসব উসকানির মুখে সবাইকে ধৈর্য ও শান্ত থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্ব নিতে হবে—গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর শক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য।
মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘I Have a Dream’ বক্তৃতার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরাও শান্তির বাংলাদেশ চাই। আমি বলতে চাই—দেশের মানুষের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমাদের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, আগামী দিনে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসবে, তারা যেন নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে—এই প্রতিজ্ঞা আজ সবাইকে নিতে হবে।