রবিবার
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


জয়নাল, চন্দনাইশ প্রতিনিধি: ডিসেম্বরের বিদায়লগ্নে এসে প্রকৃতি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল ও সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী জনপদে নেমে এসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে চারপাশ, দিনের পর দিন সূর্যের দেখা না মেলায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় চন্দনাইশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। ফলে পাহাড়ি জনপদ ও সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী এলাকায় বইছে হিমশীতল বাতাস, যা শীতের তীব্রতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
ক্রমাগত তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক ও ছিন্নমূল মানুষজন কাজে যেতে না পারায় পড়েছেন চরম বিপাকে।
অনেকেই খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে কিংবা পুরোনো কম্বল গায়ে দিয়ে শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তীব্র শীতের কারণে বাড়ছে শীতজনিত রোগব্যাধিও। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন অসহায় মানুষজন। তাদের প্রত্যাশা, এই দুর্বিষহ সময়ে বিত্তবানরা এগিয়ে এসে গরম কাপড়, কম্বল, শুকনো খাবার ও অন্যান্য শীতকালীন প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়াবেন।
সবার সম্মিলিত উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়ানো গেলে, এই তীব্র শীতের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে—এমন আশাই করছেন চন্দনাইশের শীতার্ত মানুষ।