সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রবিবার

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

রাজনীতির নামে প্রতারণা—এনসিপি ত্যাগ করলেন তাজনূভা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শনিবার এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারাও দল থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের একদিন পরই তাজনূভা জাবীনের পদত্যাগের ঘোষণায় দলটির ভেতরে চলমান সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জোট নয়, প্রক্রিয়াই মূল সমস্যা

ফেসবুক পোস্টে তাজনূভা জাবীন জানান, এনসিপির জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়টি নয়, বরং যেভাবে এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেটিই তাঁর পদত্যাগের প্রধান কারণ।

তিনি লেখেন, “এটা আদর্শের চেয়েও বড় বিষয়—বিশ্বাস। মাত্র কয়েকদিন আগে সারাদেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হলো। পরে মাত্র ৩০টি আসনে সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলো।”

তাজনূভা জাবীনের অভিযোগ, মনোনয়ন জমার শেষ সময় পর্যন্ত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।

মনোনয়ন হারানোর ভয়ে নয়’

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, “আমি মনোনয়ন হারানোর ভয়ে জোটের বিরোধিতা করছি—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি আগেই বলেছিলাম, আমার আসনে নেগোসিয়েশন হলে আমি নির্বাচন করব না।”

তিনি আরও দাবি করেন, দলের কোনো সাধারণ সভা বা নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়নি যে জোট হলে বাকি আসনের প্রার্থীরা বসে যাবেন কিংবা জামায়াতের পক্ষে প্রচার করবেন।

এই এনসিপি আর আগের এনসিপি নয়’

নিজেকে এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উল্লেখ করে তাজনূভা জাবীন লেখেন, দলটি যে গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক, মধ্যপন্থা, নারী ও জাতিসত্তার রাজনীতির কথা বলেছিল, সেই জায়গা থেকে দল সরে এসেছে।

তিনি বলেন, “এক শীর্ষ নেতা আরেক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যে মাইনাসের রাজনীতি করছে, সেখানে নতুন কোনো বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি সম্ভব নয়।”

নির্বাচনে না থাকার ঘোষণা

পদত্যাগের পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তাজনূভা জাবীন লেখেন, “ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছি, আমি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। আজই আমার মা চট্টগ্রাম থেকে আসছিলেন আমার নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য—আর আজই এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো।”

অনুদান ফেরতের আশ্বাস

নির্বাচনি অনুদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া সব ডোনেশন একে একে ফেরত দেওয়া হবে। কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় তা ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেষ বক্তব্য

পোস্টের শেষাংশে তাজনূভা জাবীন বলেন, তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন জুলাইয়ের গণআন্দোলনের স্পিরিট নিয়ে। সেই লক্ষ্য থেকেই ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ও মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থি রাজনীতির জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।