বুধবার
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মরণকালের বৃহৎ এই জানাজায় অংশ নেন লাখ লাখ মানুষ। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব।
জানাজাকে ঘিরে শুধু মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ নয়, আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষের ঢল নামে। বেলা তিনটা পর্যন্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আশপাশ, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক পেরিয়ে একদিকে শংকর ও অন্যদিকে মেট্রো শপিং কমপ্লেক্স পর্যন্ত তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের ওপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
এর আগে জানাজাস্থলে উপস্থিত হয়ে সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া চান তার ছেলে তারেক রহমান। জানাজায় উপস্থিত বিপুল জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন,
“দোয়া করবেন, আল্লাহতায়ালা যেন উনাকে বেহেশত নসিব করেন।”
এর আগে বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়। লাল-সবুজ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি ফ্রিজার ভ্যানে মরদেহ বহন করা হয়। সেনাবাহিনী হিউম্যান চেইন তৈরি করে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে মরদেহ জানাজাস্থলে পৌঁছে দেয়।
সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানে নেওয়া হয়। শুরুতে তার দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়ার কথা থাকলেও পরে মরদেহ নেওয়া হয় তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায়। সেখানে স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধা জানান। পরে বেলা ১১টা ৫ মিনিটে সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাত্রা শুরু করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসছেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি জানাজা উপলক্ষে বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।