সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার

৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

লাখো মানুষের সামনে তারেক রহমান—দোয়া ও ক্ষমার আহ্বান

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে তিনটার দিকে পৌঁছায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়ি।

জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনটি গাড়ি থেকে নামিয়ে জানাজাস্থলে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে রাখা হয়। সামনের সারিতে তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন তার ছেলে তারেক রহমান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সরকার ও রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

জানাজা শুরুর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়া ছিলেন অত্যন্ত পরিপাটি ও রুচিশীল একজন মানুষ।

ফুলের প্রতি ছিল তাঁর বিশেষ অনুরাগ, যা তাঁর রাজনৈতিক সমাবেশগুলোতেও প্রতিফলিত হতো। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া।

তাঁদের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং অপর পুত্র আরাফাত রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় মারা যান।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করার পর বিএনপি গভীর সংকটে পড়লেও ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দলের হাল ধরেন।

ভাইস চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে দলীয় কাউন্সিলে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ৪১ বছরই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে কেটেছে।

দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ১৯৯১ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনেন তিনি। আপসহীন নেতৃত্বের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন।

তিনি বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে কেউ আপসে বাধ্য করতে পারেনি। তিনি সবসময় জনগণের পাশে থেকেছেন এবং বলতেন, বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। জনগণের ভালোবাসায় তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

নজরুল ইসলাম খানের বক্তব্যের পর জানাজায় উপস্থিত লাখো মানুষের উদ্দেশে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, তাঁর মা জীবিত থাকা অবস্থায় যদি কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে মরহুমার পক্ষ থেকে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। সবাইকে তাঁর মায়ের আত্মার মাগফিরাত ও বেহেশত নসিবের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর বিকাল তিনটার দিকে জানাজা শুরু হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানাজা পড়ান। জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়ি জিয়া উদ্যানের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।