সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুক্রবার

১৬ জানুয়ারি ২০২৬

৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

রহমত ও মাগফিরাত কামনায় আজ পবিত্র শবে মেরাজ

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পালন করছেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

শবে মেরাজ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই রাতেই মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে মহানবী (সা.) মানবজাতির কাছে প্রতিদিন পাঁচবার সালাত আদায়ের বিধান পৌঁছে দেন।

শবে মেরাজ কী

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে—
“পবিত্র ও মহান সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে এক রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি, যাতে তাঁকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” —সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ১

ইসলামি ইতিহাস ও হাদিস অনুযায়ী, নবুওয়তের দশম বছরে রজব মাসের ২৭ তারিখে এই অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়। ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে ‘বুরাক’ নামের বাহনে চড়ে মহানবী (সা.) প্রথমে মক্কা থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসায় পৌঁছান। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী নবীদের নিয়ে ইমামতি করেন।

এরপর তাঁকে সাত আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি হজরত আদম, ইয়াহইয়া, ঈসা, ইদরিস, হারুন ও মুসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সপ্তম আসমানে সাক্ষাৎ হয় হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে। পরে আল্লাহর বিশেষ সান্নিধ্যে পৌঁছে উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আদেশ লাভ করেন। একই রাতে তিনি আবার মক্কায় ফিরে আসেন।

এই ঘটনার শিক্ষা

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মিরাজ মানুষের জন্য গভীর বার্তা বহন করে। সময় ও স্থান মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ হলেও আল্লাহর জন্য তা কোনো বাধা নয়। তিনি চাইলে মুহূর্তের মধ্যেই মানুষকে পৃথিবী থেকে আসমানের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দিতে পারেন।

এ ছাড়া নবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, পার্থিব মৃত্যুর পরও মানুষের অস্তিত্ব ভিন্ন এক রূপে টিকে থাকে। দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনের ব্যবধান যেন এই রাতে অনেকটাই ঘুচে যায়।

২৭ রজব বিশেষভাবে পালন করা উচিত কি না

এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য হলো—ইসরা ও মিরাজ উপলক্ষে ইসলামে কোনো নির্দিষ্ট উৎসব, বিশেষ নামাজ বা রোজার বিধান নেই। কোরআন ও সুন্নাহতে এর আনুষ্ঠানিক পালনের নির্দেশ পাওয়া যায় না।

পরবর্তীকালে বিভিন্ন দেশে মুসলমানরা মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, কাসিদা পাঠ বা মিষ্টি বিতরণসহ নানা আয়োজন শুরু করেছেন, যা মূলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। তবে এসবকে ধর্মীয় বিধান হিসেবে চালু করা বিদআত হিসেবে গণ্য হয় বলে আলেমরা মনে করেন।

তবে মুসলমানদের ইতিহাস স্মরণ, শিশুদের ইসলামের সঙ্গে পরিচিত করা কিংবা নির্যাতিত মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতি ও সহায়তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত কার্যক্রম মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে মত দিয়েছেন তারা।

ইবাদত ও দোয়া

এই পবিত্র রাতে মুসলমানরা মসজিদে-মসজিদে ও নিজ নিজ ঘরে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযগার, নফল নামাজ এবং দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা কামনা করেন।