শনিবার
১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা বৈধ করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন আপিল শুনানি ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “আগামীকাল আপিল শুনানির শেষ দিন। এটি নির্বাচন কমিশনের জন্য ‘রেড লাইন’। ইসি যদি আইন লঙ্ঘন করে বা কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আমরা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন, তাহলে তিনি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারান। সংবিধান এ বিষয়ে একেবারে স্পষ্ট।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা দেখছি, অনেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও শত শত লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে চাপ প্রয়োগ করছেন। আইনজীবীদের ব্যবহার করে নানা ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে নির্বাচন কমিশনের মধ্যেও এ বিষয়ে শিথিলতার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু প্রার্থীর পক্ষ থেকে এসব তৎপরতা চলছে। ফেনী-৩ আসনের এক প্রার্থীর আচরণকে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের লিগ্যাল টিমকে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে গালি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই দেশের নাগরিক—রক্ত দিয়ে অর্জিত নাগরিকত্ব আমাদের। কিন্তু যারা বিদেশি আনুগত্য বহন করেন, তাদের বাংলাদেশে নির্বাচন করার অধিকার নেই।”
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু পক্ষপাতিত্ব করে যদি ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বৈধ করা হয়, তাহলে আমরা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিও তুলব।”
তিনি জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন ছাড়া সবার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর কোনো প্রতিষ্ঠানই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আইনি সহায়তা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসাসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।