মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার

২১ জানুয়ারি ২০২৬

৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

‘শুধু নির্বাচন নয়’—দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের কথা বললেন সাঈদ আল নোমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:মানুষের ডাকে ও সময়ের দাবিতে’ তিনি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন—এ কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান বলেছেন, রাজনীতি কোনো পদ-পদবি বা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জায়গা নয়, বরং মানুষের প্রতি আজীবনের দায়বদ্ধতা।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাঈদ আল নোমান বলেন, “নিজের রাজনৈতিক পদ বা কোন জায়গায় পৌঁছানোর অভিলাষে আমি এখানে দাঁড়াইনি। আমি সারাজীবনের জন্য মানুষের প্রতি কমিটেড। শুধু ১২ তারিখের জন্য নয়।”

তিনি জানান, সুযোগ ও সময় পেলে তার বাবা প্রয়াত রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমানের দেখানো পথে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, “৫ বছরের মধ্যে আমার উদ্যোগ দৃশ্যমান হতে হবে। সফল হব কিনা জানি না, কিন্তু চেষ্টা চোখে পড়ার মতো হতে হবে।

২০০৩ সালে বাবা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে কেবিনেটে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার ১৬ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। একটি প্রস্তাবনা তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন। কিন্তু গত ২২ বছরে আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারিনি।”

নির্বাচিত হলে সেই অসমাপ্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর অঙ্গীকার করেন তিনি।

নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে শঙ্কার কথাও অকপটে জানান সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, “আমার কোনো ভুলে যেন মানুষের কোনো ক্ষতি না হয়, সেই ভয় কাজ করে। ভুল হলে আপনারাই আমাকে পথ দেখাবেন।”

সংসদে নির্বাচিত হলে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কোন উন্নয়ন উপকারী ও টেকসই—সেটাই সংসদের অন্যতম বড় কাজ।

নিজ নির্বাচনী এলাকা হালিশহর ও পাহাড়তলীর সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পানির সংকট, বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট, কিশোর গ্যাং এবং সরকারি হাসপাতালের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। এসব বিষয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে সাঈদ আল নোমান বলেন, “বন্দর মানে শুধু জাহাজ আসা-যাওয়া নয়। এর সঙ্গে অনেক কার্যক্রম জড়িত। চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন।”

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কিশোরদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার মিছিল বড় হতে হবে না। দয়া করে আমার মিছিলে যেন কোনো কিশোর না থাকে। তাদের রাজনীতিতে আসার বয়সও হয়নি, প্রয়োজনও নেই।”

উন্নয়ন কাজে সমন্বয়হীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নীতিগত কোনো সুপারিশের সুযোগ থাকলে তিনি তা দেবেন বলেও জানান।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সাঈদ আল নোমান বলেন, “জয়-পরাজয় নিয়ে যিনি ভাবেন, তিনি আগে নিজের কাছে হেরে যান। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, তাকেই সাধুবাদ জানাব।”

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে জবাবদিহির বিষয়ে তিনি বলেন, “এটাই গণতন্ত্র। মানুষ যদি মনে করে আমি কিছু করতে পারিনি, পাঁচ বছর পর তারা ভোটের মাধ্যমে আরেকজনকে সুযোগ দিতে পারবে।”

মতবিনিময় সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এ এম নাজিম উদ্দিনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন