শুক্রবার
২৩ জানুয়ারি ২০২৬
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: নির্বাচনি প্রচারের দ্বিতীয় দিনে রাজনৈতিক দল ও সরকারের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বিভাজন নয়, ঐক্যই সবচেয়ে জরুরি এবং অলীক প্রতিশ্রুতি নয়—বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে যাওয়া উচিত।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডমেস্টিক লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, জাতির এই সংকটকালে সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে পরস্পরের প্রতি আঘাতমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিহার করে দেশ গঠনে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবেন, তাদের প্রতি সকলের শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে ভিন্ন কোনো কৌশলে প্রভাবিত করার সব ধরনের অসৎ উদ্দেশ্য থেকে বিরত থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো পর্যায়ের কেউ যদি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, গতকাল থেকে সারাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। যদিও সরকার এর আগেই গণভোটের প্রচারণা শুরু করেছিল, তবে জামায়াতে ইসলামি আরপিওকে সম্মান জানিয়ে সে ধরনের প্রচারণায় অংশ নেয়নি।
তিনি দাবি করেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ কার্যত চোরাবালিতে নিমজ্জিত ছিল। দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং জাতির কাঁধে প্রায় ১১৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা চাপানো হয়েছে। ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক আজ বেকার। কর্মক্ষেত্রে এখনও অনেক ক্ষেত্রে কর্মীবান্ধব পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে মা-বোনদের চলাচল ও কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। এসব বাস্তবতার মধ্যেই এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রবাসী ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু হলেও এখনও কিছু দেশে তা পৌঁছায়নি। আজ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এবং আগামী শনি ও রোববার পশ্চিমা দেশগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সময় অত্যন্ত সীমিত। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন ব্যালট পেপার প্রবাসী ভোটারদের হাতে পৌঁছে এবং সময়মতো দেশে ফেরত আসে, অন্যথায় তা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, যারা গত ৫৪ বছরের পচে যাওয়া রাজনীতি চান না এবং রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন চান, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন বলে তিনি আশা করেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামি এককভাবে নয়, দেশপ্রেমিক ও ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে নির্বাচন করছে। সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের স্লোগান—‘এসো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’।
উত্তরবঙ্গের আট জেলা সফরের উদ্দেশে বিমানবন্দর ত্যাগের আগে শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকার বাইরে এই সফরের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনি কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। জনগণের পালস বুঝে, তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ইনসাফভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত জনগণকে কেনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। কার্ডের লোভ, ভুয়া প্রতিশ্রুতি, ১০ টাকা কেজি দরে চাল কিংবা ভুয়া ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস—এসবই আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের চোরাপথে জনগণের ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা তারা ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিএনপির প্রস্তাবিত ফ্যামিলি কার্ডের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির।
এ সময় তাকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।