মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার

২৩ জানুয়ারি ২০২৬

১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

বায়েজিদে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, মূল আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ বিশেষ অভিযানে মো. আনিছ (৩৮) নামের এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি সুফিয়া আক্তার (৩৯) কে গ্রেফতার করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।

সিএমপি উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (বায়েজিদ বোস্তামী জোন)-এর তত্ত্বাবধানে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম ২২ জানুয়ারি পাঠানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি ও তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিম মো. আনিছের শরীরের বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে, গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাতে (২১ জানুয়ারি ভোর ১টা ৩০ মিনিটে) বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদ নগর চারতলার মোড় এলাকায় দেলোয়ার কোম্পানির বাড়ির সামনে একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মানবদেহের দুটি কাটা হাত উদ্ধার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকৃত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও দেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে ব্যাপক তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি মো. আনিছ (৩৮), পিতা হায়দার আলী, মাতা নূর জাদু বেগম। তার বাড়ি রাউজান উপজেলার চিকদাইর এলাকায়।

পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পারে, মো. আনিছ গত ২০ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এরপর হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে জোরদার অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে ২২ জানুয়ারি ভোর ৪টার দিকে শহীদ নগর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, সুফিয়া আক্তারের সঙ্গে ভিকটিম আনিছের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সুফিয়া আক্তার ভিকটিমের ওপর তীব্র ক্ষোভ পোষণ করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ভিকটিমকে পাঠানপাড়ায় তার বাসায় ডেকে আনা হয়। সেখানে আসামি ও তার সহযোগীরা বাসায় থাকা পাথরের শীল দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ভিকটিমকে হত্যা করে।

হত্যার পর মরদেহ লোহার দা ও চাপাতি দিয়ে টুকরা টুকরা করে কালো পলিথিনে ভরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে শহীদ নগর ও শীতলকর্ণা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।