শনিবার
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


কক্সবাজার প্রতিনিধি:: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে চলতি মৌসুমের পর্যটন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপটি ছেড়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। ফলে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে সেন্ট মার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচল করবে না।
সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও, চলতি বছর পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন সজিব বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে সরকার ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যটক সীমিত করায় পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের কথাও জানিয়েছেন ভ্রমণকারীরা। সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘এ বছর পর্যটক সংখ্যা সীমিত থাকায় ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ এবং নির্বিচারে প্রবাল ও কোরাল-পাথর উত্তোলন কমেছে। এটি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ।’
তবে পর্যটন বন্ধ হওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন দ্বীপের স্থানীয়রা। অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ হামিদ বলেন, পর্যটক না থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। মাছ ধরার পেশায় আবার ফিরতে হবে। রিকশা কেনার জন্য নেওয়া ঋণের কিস্তি শোধ করতে না পারায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান জানান, অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগের টাকা তুলতেই পারেননি। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী লাভের বদলে লোকসানে পড়েছেন। পর্যটন বন্ধ থাকলে আগামী কয়েক মাস দ্বীপের মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম বলেন, দ্বীপের মানুষ পুরোপুরি পর্যটননির্ভর। নয় মাসের জন্য পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকায় জীবিকা বড় সংকটে পড়বে। পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি হলেও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘ সময় পর্যটন বন্ধ রাখা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভ্রমণ বন্ধ হওয়ায় মানুষ হতাশ। সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো গেলে স্থানীয়দের টিকে থাকা সহজ হতো।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, পর্যটন মৌসুমে সেন্ট মার্টিনে রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। একই সঙ্গে সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা নিষেধ করা হয়।
এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ রাখা হয়। পলিথিনসহ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহনেও ছিল কড়াকড়ি বিধিনিষেধ। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে টানা নয় মাস পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, দীর্ঘ সময় পর্যটক না থাকলে প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাস পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবে। এতে দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।