রবিবার
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হলো। মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ও স্মৃতিমাখা এই মাসে দিন গণনার সঙ্গে সঙ্গে আবারও হৃদয়ে বাজতে শুরু করেছে ভালোবাসার গান— “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।”
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি তার ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি লাভ করে ভাষাভিত্তিক পরিচয় ও মর্যাদা। ফেব্রুয়ারি তাই বাঙালির কাছে কেবল একটি মাস নয়—এটি গৌরব, সংগ্রাম ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার প্রতীক।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে যারা ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মরণে পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েই ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বাঙালি জাতি।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর ফলে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষার দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে।
এর পেছনের ইতিহাসে রয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা দিয়েছিলেন—পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। এ ঘোষণার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায় এবং বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন, যা ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা তা অমান্য করে মিছিল বের করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিকসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাঙালি জাতি পায় মাতৃভাষা বাংলার সাংবিধানিক স্বীকৃতি।
ফেব্রুয়ারি তাই শুধু একটি মাস নয়—এটি ভাষার অধিকার, আত্মত্যাগ ও জাতিসত্তার অহংকারের মাস।