বুধবার
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
মিরসরাইয়ে ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যানে আগুন
বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর সদরে তার নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে ১৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন।
অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় মিরসরাই পৌর সদরের একটি রেস্টুরেন্টে তার ২২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন।
উভয় প্রার্থীর ইশতেহারের গুরুত্ব পেয়েছে নিরাপদ, কর্মসংস্থানমুখী ও উন্নত মিরসরাই গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে সমানে সমান।
বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের তার নির্বাচনী ইশতেহারে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক আধুনিকায়ন এবং মিরসরাইয়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ ও আধুনিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এছাড়াও তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, আইসিটি ল্যাব ও লাইব্রেরি স্থাপন, তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে ক্রীড়া টুর্নামেন্ট আয়োজন, কৃষি কার্ড প্রদান, খাল-ছড়া খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ট্রমা সেন্টার নির্মাণ, গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় নাগরিক মতামত গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা আয়োজনের অঙ্গীকারও করেছেন।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান তার নির্বাচনী ইশতেহারে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষক ও শ্রমিক কল্যাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এছাড়াও বেকারত্ব দূরীকরণে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থানীয়দের জন্য ন্যূনতম ২৫ শতাংশ চাকরির কোটা নিশ্চিত করা, ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তরুণদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড গঠনের কথা বলা হয়। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন, মা ও শিশুস্বাস্থ্যে বিশেষ সেবা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের অঙ্গীকার করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন বলেন, ’আমি চাই আমার এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস কমুক। দুজন প্রার্থীর প্রতিশ্রুতির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়টা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
স্কুল শিক্ষক শাকিলা আক্তার বলেন, ’আমি তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেখতে চেয়েছি। সাইফুর রহমানের স্টার্টআপ ফান্ডের কথা ভালো লেগেছে, কিন্তু নুরুল আমিনের শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।’ স্থানীয় কৃষক হামিদুর রহমান জানান, ’আমরা চাই আমাদের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্য মূল্য পাই। দুজন প্রার্থীর ইশতেহারে কৃষকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকায় তা ইতিবাচক বলে মনে হচ্ছে।’
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়ন এই তিনটি বিষয় ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। উভয় প্রার্থীই মিরসরাইকে সমৃদ্ধ ও মানবিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন, যা নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, ’মিরসরাইকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা এই ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, ’জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রাখলে মিরসরাইকে একটি নিরাপদ, উন্নত ও মানবিক এলাকায় রূপান্তর করতে চাই।’
এ প্রসঙ্গে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বলেন, ’আমি মিরসরাইকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও দুর্নীতিমুক্ত একটি নিরাপদ, উন্নত ও মানবিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য আমারা ১৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছি। নির্বাচিত হলে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন, পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত ও নারী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, ’আমাদের লক্ষ্য উন্নয়ন পরিকল্পনায় নাগরিকদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করে সবাইকে এগিয়ে নেওয়া।জনগণ আমাদের উপর আস্থা রাখলে আমারা মিরসরাইকে সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে গড়তে চাই।’