রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

আল্লাহর দয়ার দুয়ার উন্মুক্ত—রহমতের ১০ দিনের তাৎপর্য

নিউজ ডেস্ক: রমজান মাস মুসলমানদের জন্য শুধু ইবাদতের সময় নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের এক মহাসুযোগ। ইসলামি বর্ণনায় রমজানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে—রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত। এর মধ্যে প্রথম দশক পরিচিত ‘রহমতের দশক’ নামে, যখন আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ওপর দয়ার দুয়ার উন্মুক্ত করে দেন।

‘রহমত’ শব্দের অর্থ দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ। পবিত্র কোরআনের সূচনাতেই আছে— “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম”—পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমার রহমত সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।” (সুরা আল-আ’রাফ: ১৫৬)

রমজানের প্রথম দশক এই রহমতের বাস্তব প্রতিফলন, যখন বান্দারা তাওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার বিশেষ সুযোগ পান।

হাদিসে রহমতের ১০ দিনের উল্লেখ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রমজানের প্রথম দশক রহমত, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাত এবং শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির।” (বায়হাকি) এ হাদিসের আলোকে আলেমরা প্রথম দশককে আল্লাহর বিশেষ দয়ার সময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

রোজার মর্যাদা ও তাকওয়ার শিক্ষা

পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে… যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, “রোজা আমার জন্য, আর আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব।” (বুখারি, মুসলিম)

রহমতের দশকে রোজা শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করা নয়, বরং আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহভীতির প্রশিক্ষণ।

দোয়া—রহমতের প্রধান চাবিকাঠি

আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি নিকটবর্তী। আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৬)

রাসুল (সা.) বলেছেন, “রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময় কবুল করা হয়।” (ইবনে মাজাহ) এই সময় আন্তরিক দোয়া ও কান্নাভেজা প্রার্থনা বান্দাকে আল্লাহর রহমতের ছায়ায় নিয়ে আসে।

নামাজ, তারাবি ও কোরআন তিলাওয়াত

রমজানে নফল ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (বুখারি)

রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস— “রমজান মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে…” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৫) কোরআন নিজেই শিফা ও রহমত (সুরা বনি ইসরাইল: ৮২)।

রমজানে দানশীলতার গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিসে এসেছে, “রমজানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন প্রবল বেগে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল।” (বুখারি)

এ সময় আত্মীয়তার সম্পর্ক জোরদার করা ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো রহমতের বাস্তব প্রকাশ।

আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।” (সুরা যুমার: ৫৩) রহমতের দশক পাপমুক্ত জীবনের নতুন সূচনা করার আহ্বান।

রমজানের প্রথম দশক আল্লাহর দয়া লাভের এক স্বর্ণালী সময়। ইবাদত, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও মানবসেবার মাধ্যমে এই সময়কে কাজে লাগাতে পারলে পুরো রমজানই হয়ে উঠতে পারে নৈকট্য ও আত্মশুদ্ধির ধারাবাহিক পথচলা।