রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রবিবার

০৮ মার্চ ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৮ মার্চ) ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে অবদান রাখতে পারবে।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। এ প্রেক্ষাপটে এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য— “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”— অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল অর্জন করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

শহীদ জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ‘নারী বিষয়ক দফতর’ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার এটিকে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তর করে।

নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা হয়েছিল, যা ছিল একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে।

তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজে সমতা হোক অঙ্গীকার, মর্যাদা হোক বাস্তবতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন হোক উন্নয়নের ভিত্তি।

সবশেষে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।