শুক্রবার
১৩ মার্চ ২০২৬
২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মন্ত্রী জানান, জ্বালানিমন্ত্রী তাকে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন, যার ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহনের সমস্যা বা ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই। ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত স্বস্তিদায়ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া টিকিট বিক্রিতে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ ছিল। প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কিনতে চেয়েও দৈনিক ৩৬ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। রেলের সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের উদ্বেগের বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান মান যেকোনো মূল্যে ধরে রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত করা হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় রেল যোগাযোগকে আধুনিক ও জনবান্ধব করতে ব্যাপক পরিবর্তনের কাজ চলছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ইতিমধ্যে রেলে ১২৪টি অতিরিক্ত কোচ এবং ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতিদিন ৪২ হাজার পর্যন্ত যাত্রীকে সেবা দিতে সক্ষম।
ট্রেনের সময়সূচি বজায় রাখার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বড় কোনো বিপর্যয় এড়াতে বর্তমানে ৭৮টি লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
রেলের ছাদে যাতায়াতের প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন হলেও কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত না করে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া প্রায় দেড় কোটি মানুষের চাপ সামলাতে নতুন কোচ ও বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
নিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে পুলিশ, আনসার ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতি ৫০০ মিটার পরপর স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ছয় লেনের কাজ চললেও অন্তত দুটি লেন সচল রাখা হয়েছে যাতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না হয়। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। মন্ত্রী যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।