বুধবার
১৮ মার্চ ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের তেল আবিবে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলের উপকূলীয় শহর নেতানিয়ার আকাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আলোকচ্ছটা দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-কে ইরান জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশটির বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সংঘাতের সময় পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় আগে শুরু হওয়া তাদের যৌথ হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখা। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
ইরান সরকার ইতোমধ্যে লারিজানির নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খামেনির মৃত্যুর পর তিনিই এখন পর্যন্ত নিহত সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, ইরান বারবার ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে অসংখ্য ছোট বোমায় বিভক্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রতিরোধ করা কঠিন।
গতকাল রাতে তেল আবিবে চালানো এমনই এক হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এতে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৪ জনে।
এদিকে, লারিজানি যে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ছিলেন, সেই সংস্থা জানিয়েছে—ইসরায়েলি হামলায় তার ছেলে এবং ডেপুটি আলিরেজা বায়াতও নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলমান ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।