বৃহস্পতিবার
১৯ মার্চ ২০২৬
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: ঈদ সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনে যাত্রী পরিবহনে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত আসন তো দূরের কথা, দাঁড়ানোর জায়গাও না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে যাত্রা করছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাদভর্তি যাত্রী নিয়েই ছেড়ে যায়। ট্রেনটি সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ৭ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে যাত্রা শুরু করে, যদিও নির্ধারিত সময় ছিল ভোর ৬টা ৪৫ মিনিট।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, আগের দিন বগুড়ার সান্তাহারে দুর্ঘটনায় ট্রেনটির একাধিক কোচ লাইনচ্যুত হওয়ায় এটি সময়মতো ঢাকায় ফিরতে পারেনি। ফলে কোচ সংকট তৈরি হয় এবং নতুন কোচ সংযোজন করতে গিয়ে বিলম্ব ঘটে।
সকাল থেকেই স্টেশনে হাজারো যাত্রীর ভিড় জমে। ট্রেন প্লাটফর্মে পৌঁছানোর পরপরই যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে ওঠার চেষ্টা করেন। অল্প সময়েই কোচের ভেতরে জায়গা শেষ হয়ে গেলে অনেকে বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ছাদ যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যায়।
নাটোরগামী যাত্রী রুবেল বলেন, “দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট থাকলেও ভেতরে ঢোকার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছি।”
নারায়ণগঞ্জের পোশাক শ্রমিক আলী ইমাম জানান, ভোর থেকে স্টেশনে অপেক্ষা করেও ট্রেন ছাড়ার সময় বারবার পরিবর্তন হওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। “যদি পথে ঈদ করতে হয় সেই ভয় ছিল। এখন অন্তত ট্রেনে উঠতে পেরেছি,” বলেন তিনি।
অন্যদিকে, টিকিট না পেয়ে সৈয়দপুরগামী মনিরুজ্জামান ছাদেই যাত্রা শুরু করেন। “ট্রেনে উঠতে পেরেছি, এখন আল্লাহ ভরসা,” বলেন তিনি।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, “ট্রেনটি দেরিতে ঢাকায় পৌঁছায় এবং কোচ সংকট ছিল। নতুন কোচ যুক্ত করতে গিয়ে দেরি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে কেউ ছাদে ভ্রমণ না করেন।”
তিনি আরও জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা স্টেশনে তৎপর রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রী চাপ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।