বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রবিবার

২৯ মার্চ ২০২৬

৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

যুদ্ধের মাঝেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক, ২৫ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩০ জাহাজ

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অচলাবস্থার আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। টানা জাহাজ আগমনে স্বস্তিতে রয়েছে দেশ।

গত ২৫ দিনে চট্টগ্রাম বন্দর-এ জ্বালানি তেলবাহী ৩০টি জাহাজ ভিড়েছে। এর মধ্যে ২৭টি ইতোমধ্যে তেল খালাস করে ফিরে গেছে এবং বর্তমানে আরও দুটি জাহাজ থেকে খালাস কার্যক্রম চলছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব জাহাজের মধ্যে তিনটিতে এলএনজি, দুটিতে গ্যাস অয়েল এবং একটিতে এলপিজি রয়েছে—যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

এদিকে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানের নাম রয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে আসা জাহাজগুলোর মধ্যে এলএনজি এসেছে মূলত কাতার ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। এলপিজি এসেছে মালয়েশিয়া, ওমান, ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে। এছাড়া গ্যাস অয়েল ও হাই সালফার ফুয়েলও বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে।

তবে উদ্বেগ রয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি (ক্রুড অয়েল) সরবরাহ নিয়ে। সাধারণত প্রতি মাসে ১ থেকে দেড় লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি হলেও মার্চ মাসে নির্ধারিত কোনো জাহাজ এখনো বন্দরে পৌঁছায়নি। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি চালান এসেছে, এরপর আর কোনো আমদানি হয়নি।

যদিও বাংলাদেশ মূলত পরিশোধিত জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল। বছরে মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই পরিশোধিত তেল হিসেবে সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।