বুধবার
১৫ এপ্রিল ২০২৬
২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে আগামী জুলাই থেকে ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার—এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন। এর মধ্যে চলমান চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাকি শিক্ষকদেরও ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি স্কুল পরিচালনার জন্য সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা রয়েছে এবং তা অনুসরণ করেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমুদ্রসম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নদীভাঙন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা। নদী শাসনের পাশাপাশি খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং বন্যা ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে সরকার।
পর্যটন খাত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকায় পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পায়রা-কুয়াকাটা অঞ্চলে ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, ধর্মীয় নেতাদের সহায়তা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী চারটি তারকাচিহ্নিত ও সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন।