সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার

১৭ এপ্রিল ২০২৬

২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

চট্টগ্রামে ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে নগরী ও গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে, আর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তবে উৎপাদন ঘাটতির কারণে কোথাও এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলছে না।

নগরীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের গ্রামাঞ্চলে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে গরমের মধ্যে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পানির সংকটও দেখা দিয়েছে, কারণ বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়াসার পানি তোলা যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে বর্তমানে বিদ্যুতের ঘাটতি ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি তেলের সংকটে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক ইউনিট এবং রাউজানের দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। এছাড়া জুডিয়াকের একটি কেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

পিডিবির হিসাবে, চট্টগ্রামে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৪৩২ মেগাওয়াটের বেশি, কিন্তু সরবরাহ সেই তুলনায় কম থাকায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। যদিও কাগজে-কলমে লোডশেডিং কম দেখানো হয়, বাস্তবে তা আরও বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শিল্পাঞ্চলগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। বায়েজিদ বোস্তামী ও কালুরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। জেনারেটর চালিয়েও পুরো ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, কিছু এলাকায় উন্নয়ন ও জরুরি মেরামতের কাজের কারণেও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, এটি মূলত লোডশেডিং আড়াল করার একটি কৌশল।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।