বুধবার
২৯ এপ্রিল ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলাও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকার নদ–নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নাঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে পানি জমতে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও এলাকায় বন্যা দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান বৃষ্টিপাত আরও অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৭টি অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, সিলেটসহ এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে—১৬১ মিলিমিটার।
এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, বৃষ্টি একটানা না হয়ে থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে এবং এটি আগামী ৪ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের চারটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীগুলো হলো—ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে তিনটি নদী নেত্রকোনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, এসব নদী আকারে ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়। তবে বৃষ্টিপাত কমে গেলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।