বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শনিবার

০২ মে ২০২৬

৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

ঘণ্টাখানেক বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি, আবারও ডুবল চট্টগ্রাম

রোজী চৌধুরী: মাত্র দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতায় ভুগেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম-এর বিভিন্ন এলাকা। শনিবার বিকেল ৪টার পর ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হলে প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, রহমতগঞ্জ, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক ও রামপুরা এলাকায় পানি জমে যায়।

বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই প্রবর্তক মোড় থেকে বদনা শাহ মাজার পর্যন্ত সড়কে পানি জমে জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়। এর আগে টানা তিনদিনও একই এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গিয়েছিল।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম সফরে এসে খালের বাঁধ অপসারণের কথা জানিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। তবে তিন দিনের মাথায় আবারও একই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এখনো হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সব বাঁধ অপসারণ করা হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না।

প্রবর্তক মোড় এলাকায় বিকেলে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। পাঁচলাইশের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, “ঘণ্টাখানেক বৃষ্টিতেই এত পানি উঠবে ভাবিনি, এখন হাঁটু পানি।”

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা জানান, বিকাল ৫টার দিকে পানি উঠলেও সন্ধ্যার মধ্যে বেশিরভাগ এলাকায় নেমে গেছে। তবে কিছু এলাকায় এখনো বাঁধ অপসারণের কাজ বাকি রয়েছে।

সন্ধ্যায় আগ্রাবাদ-রামপুরা এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, খালের বাঁধের কারণে পানি জমছে। দ্রুত এসব বাঁধ সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড এ কাজে যুক্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, জামালখান, প্রবর্তক মোড়, মেডিকেল, কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশ এলাকায় জলাবদ্ধতার মূল কারণ খালের ওপর দেওয়া বাঁধ। দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো সরিয়ে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অবজারভার মো. মিনহাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেই বারবার জলাবদ্ধতার ঘটনা নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে।