রবিবার
১০ মে ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের মূলধারার অর্থনীতির বাইরে থাকা মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংক-এর যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “শুধু রাজনৈতিক কাঠামোয় গণতন্ত্র থাকলেই চলবে না, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়ও তার প্রতিফলন থাকতে হবে।” অতীতে সীমিত একটি ধনী গোষ্ঠী দেশের অর্থনীতির বেশিরভাগ সুবিধা ভোগ করলেও বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। মানদণ্ড পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।
দেশের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা হতাশাজনক। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। অবশিষ্ট সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে চায় সরকার।
হস্তশিল্প খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনার অভাবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রত্যাশিত অবস্থানে যেতে পারেনি। শীতলপাটির মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বিশ্ববাজার থাকলেও আধুনিক নকশা ও কার্যকর বিপণনের অভাবে দেশ সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না।
সংস্কৃতি, সংগীত, থিয়েটার ও খেলাধুলাকেও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব খাত জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।
নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবার পরিচালনা ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইভাবে কৃষক কার্ড উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।