রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শনিবার

১৬ মে ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

যুদ্ধের মধ্যেই আমিরাতে মোদির জ্বালানি কূটনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

শুক্রবার (১৫ মে) ছয় দিনের বিদেশ সফর শুরু করেন মোদি। সফরের প্রথম গন্তব্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর ইউরোপের চার দেশ— নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ইতালি সফরের কথা রয়েছে তার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ভাঙন নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন মোদি। আমিরাত সফরে সেই উদ্যোগেরই সূচনা হয়েছে।

আবুধাবিতে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ, কৌশলগত জ্বালানি মজুত, প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে একাধিক চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কারণ, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় আমিরাতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া ভারতের গুজরাটে একটি জাহাজ মেরামত কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়েও সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই দেশ। এই প্রকল্প ভারতের সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশটিকে আঞ্চলিক জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত করতে সহায়তা করবে।

প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে মোদি বলেন, সব পরিস্থিতিতে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে যুদ্ধ চলাকালে ইরানের পক্ষ থেকে আমিরাতে হামলারও নিন্দা জানিয়েছেন মোদি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করা প্রয়োজন।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। গত ২৫ বছরে দেশটি ভারতের সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী হিসেবেও উঠে এসেছে। আমিরাতে প্রায় ৪৫ লাখ ভারতীয় নাগরিক বসবাস করায় সফরটি প্রবাসী ভারতীয়দের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বাড়লেও আমিরাত এখনও ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির ফলে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় ভারত কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।