শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রবিবার

১৭ মে ২০২৬

১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

কত টাকা থাকলে কোরবানি ওয়াজিব? জানুন ইসলামি বিধান

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন—কত টাকা বা সম্পদ থাকলে কোরবানি করা ওয়াজিব হয়? ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

শরিয়ত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও মুকিম মুসলমানের কাছে ১০, ১১ ও ১২ জিলহজের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।

নিসাবের পরিমাণ হলো—সাড়ে সাত তোলা সোনা, সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা সম্পদ।

বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, সোনার নিসাব হিসেবে প্রায় চার লাখ টাকার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে। আর রুপার নিসাব অনুযায়ী প্রায় ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি সমমূল্যের সম্পদ থাকলেও কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এই সম্পদ এক বছর ধরে নিজের কাছে থাকা জরুরি নয়। বরং জিলহজ মাসের নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

তবে কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে অবশ্যই মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন এবং ঋণমুক্ত হতে হবে। কেউ যদি সফরে থাকেন—অর্থাৎ প্রায় ৪৮ মাইল বা তার বেশি দূরত্বে ভ্রমণে থাকেন—তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। একইভাবে নাবালেগ শিশু বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ওপরও কোরবানি আবশ্যক নয়।

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, শুধু নগদ অর্থ নয়; ব্যবসার পণ্য, প্রাইজবন্ড বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেকোনো সম্পদও নিসাবের হিসাবের মধ্যে ধরা হবে।

এছাড়া পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য যদি আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে প্রত্যেকের ওপর পৃথকভাবে কোরবানি ওয়াজিব হবে। একজনের কোরবানি অন্যজনের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে না।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে কোরবানি না করলে ব্যক্তি গুনাহগার হবেন।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি শুধু আর্থিক ইবাদত নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত।