বুধবার
২০ মে ২০২৬
৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রাম মহানগরীতে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে পুলিশ কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তাদের জন্য ‘মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা’ বাস্তবায়ন বিষয়ক এ প্রশিক্ষণ ২০ মে ২০২৬ বুধবার নগরীর রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে শুরু হয়।
দুই দিনব্যাপী (২০ ও ২১ মে) এ কর্মশালার আয়োজন করা হয় ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) আওতায়।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, সড়কে সময় বাঁচানোর চেয়ে জীবন বাঁচানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বিদ্যমান ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ফেরদৌস আলী চৌধুরী।
জিআরএসপির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র রোড পুলিশিং অ্যাডভাইজর পিটার জোনস প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন। সেশনগুলোতে অতিরিক্ত গতির কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি, গতিসীমা কার্যকর করতে প্রযুক্তির ব্যবহার, পুলিশের ভূমিকা এবং নিরাপদভাবে চেকপোস্ট পরিচালনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৪৪ শতাংশের বেশি যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে চলাচল করে। এর ফলে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১০০ জনের প্রাণহানি ঘটে। ‘রোড সেফটি রিস্ক ফ্যাক্টরস ইন চট্টগ্রাম: স্ট্যাটাস সামারি রিপোর্ট ২০২৪’ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে গতিসীমা লঙ্ঘনের হার সবচেয়ে বেশি; প্রায় ৭০ শতাংশ মোটরসাইকেল নির্ধারিত গতির চেয়ে বেশি গতিতে চলতে দেখা গেছে।
মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা ২০২৪ অনুযায়ী, মহাসড়কে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার, শহর এলাকায় ৫০ কিলোমিটার এবং স্কুলের আশপাশে ৩০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে যানবাহন চালালে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
পিটার জোনস বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সেইফ সিস্টেম’ পদ্ধতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং বিআরটিএর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত কমানো সম্ভব হবে।
কর্মশালায় ট্রাফিক সার্জেন্ট, সাব-ইন্সপেক্টর, পুলিশ পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ কমিশনার ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ মোট ৭২ জন পুলিশ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চারজন পরিদর্শকও অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ শেষে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।