বুধবার
২০ মে ২০২৬
৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে আদালতপাড়ায় কালো পতাকা প্রদর্শন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা।
বুধবার (২০ মে) দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম আদালত ভবন চত্বর ও আশপাশের এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা ‘ভুয়া নির্বাচন’ ও ‘অটো নির্বাচন’ স্লোগান দিয়ে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা ‘ভোটবিহীন একতরফা নির্বাচন’ বর্জনের আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, আইনজীবীদের মতামত উপেক্ষা করে একটি পক্ষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চট্টগ্রাম মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এবং সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়ুব খান, এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন, বজলুর রশিদ মিন্টু, মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকশ আইনজীবী।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ দিদার উদ্দীন বলেন, “সমিতির ১৩৩ বছরের ইতিহাসে কখনো ভোটবিহীন বা ‘অটো কমিটি’ গঠনের নজির ছিল না। করোনাকালেও সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এবার একটি পাতানো ও তামাশার নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের নির্বাচন সমিতির ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করছে। জামায়াতপন্থী আইনজীবীরাও ইতোমধ্যে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।”
সভাপতি পদপ্রার্থী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান কমিটি জবরদখলের মাধ্যমে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। নিজেদের অনুগত নির্বাচন কমিশন গঠন করে নিজেরাই কমিটি ঘোষণা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। অথচ সাধারণ আইনজীবীদের বড় একটি অংশ আমাদের সঙ্গে রয়েছে।”
কালো পতাকা মিছিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এক সপ্তাহ আগে আমরা এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলাম। পরে একই সময় ও স্থানে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে আমাদের বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে শত শত আইনজীবীর উপস্থিতিতে আদালত ভবন ঘিরে সফলভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সম্পন্ন হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হলেও আইনজীবীদের মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।