শুক্রবার
২২ মে ২০২৬
২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) যে মতামত দিয়েছে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও ১৪১-৮ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রস্তাবটি উত্থাপন করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু। এতে আইসিজের ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতকে সমর্থন জানানো হয়। ওই মতামতে বলা হয়েছিল, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আইনি দায়িত্ব।
যদিও আইসিজের এ মতামত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও এটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে জলবায়ু সংক্রান্ত মামলায় ব্যবহার হচ্ছে এবং বিচারকরাও রায়ে তা উল্লেখ করছেন।
ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরাইল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৪১টি দেশ পক্ষে ভোট দেয়।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর বলেন, এ প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও জনগণকে জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের শক্তিশালী স্বীকৃতি।
অন্যদিকে জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে ‘অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি’ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অনেক দ্বীপরাষ্ট্র ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়েছে। তুভালু-এর বেশিরভাগ এলাকা ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইভাবে নাউরু ভবিষ্যৎ জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বিদেশিদের কাছে নাগরিকত্ব বিক্রির মতো উদ্যোগ নিয়েছে।
২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা এখন সতর্ক করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি বাড়ছে।