বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার

২৭ মে ২০২৬

৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

আড়ালের সেই ‘কিচেন কেবিনেট’: অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত কারা নিত?

বিশেষ প্রতিনিধি:: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে সক্রিয় ছিল একটি অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী—যাকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর সামনে এসেছে বহুল আলোচিত ‘কিচেন কেবিনেট’ ইস্যু।

তার দাবি, সরকার পরিচালনায় আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে সাত সদস্যের একটি ঘনিষ্ঠ বলয় নীতিগত ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করত। প্রতি মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’য় এই গোষ্ঠীর বৈঠক হতো বলেও জানান তিনি।

তৌহিদ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রণালয়গুলোকে অন্ধকারে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। এমনকি কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ সম্পৃক্ততা ছিল না। এসব কারণে তিনি একাধিকবার পদত্যাগের চিন্তাও করেছিলেন বলে জানান।

শুধু তৌহিদ হোসেন নন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে একটি অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী বলয়ের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি নিজেকে ওই বলয়ের অংশ নন বলে দাবি করেন।

কী এই ‘কিচেন কেবিনেট’?

রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘কিচেন কেবিনেট’ বলতে বোঝায়—সরকারপ্রধানের ঘনিষ্ঠ কিছু অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা বা আস্থাভাজন ব্যক্তিদের ছোট একটি বলয়, যারা সাংবিধানিক পদে না থেকেও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেন।

সাধারণত এ ধরনের গোষ্ঠীতে থাকেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহচর, পরিবারের সদস্য কিংবা বিশেষ কোনো খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের সরাসরি জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয় না, কিন্তু নীতিনির্ধারণে তাদের প্রভাব থাকে উল্লেখযোগ্য।

কোথা থেকে এলো শব্দটি?

‘কিচেন কেবিনেট’ শব্দটির উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রে। উনিশ শতকের ত্রিশের দশকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার বাইরে কিছু ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি নিয়মিত পরামর্শ দিতেন। সমালোচকেরা ব্যঙ্গ করে বলতেন, তারা মূল দরজা নয়—রান্নাঘরের পথ দিয়ে হোয়াইট হাউসে ঢোকেন। সেখান থেকেই রাজনীতিতে ‘কিচেন কেবিনেট’ শব্দটির প্রচলন।

নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে কেন?

সাবেক উপদেষ্টাদের বক্তব্য সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্র পরিচালনায় আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে কোনো গোপন প্রভাবশালী বলয় সক্রিয় ছিল কি না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ এটিকে ‘ছায়া সরকার’ বলছেন, আবার কেউ বলছেন—সংকটময় সময়ে অনানুষ্ঠানিক পরামর্শক গোষ্ঠী থাকতেই পারে। তবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা কতটা ছিল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।