বৃহস্পতিবার
২৮ মে ২০২৬
৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


স্টাফ রিপোর্টার: কোরবানির ঈদকে ঘিরে চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়ার আড়তে জমে উঠেছে কেনাবেচা। বিভিন্ন উপজেলা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে নগরের আড়তগুলোতে আসছে গরুর চামড়া। তবে বাজারে সরব উপস্থিতি থাকলেও দাম না পেয়ে হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
নগরের আতুরার ডিপো এলাকার কাঁচা চামড়ার আড়ত ঘুরে দেখা যায়, ছোট আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। মাঝারি আকারের চামড়ার দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বড় আকারের চামড়াও বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রামের হাট কিংবা বাসাবাড়ি থেকে বড় চামড়া সংগ্রহ করতে তাদের ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয়। ফলে আড়তে এসে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় গুনতে হচ্ছে লোকসান।
সাধারণত ১২ থেকে ১৬ বর্গফুটের চামড়াকে ছোট, ১৭ থেকে ২২ বর্গফুটকে মাঝারি এবং ২৩ বর্গফুটের বেশি চামড়াকে বড় হিসেবে ধরা হয়। তবে সাইজ অনুযায়ী দাম বাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
আতুরার ডিপোতে চামড়া নিয়ে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. জয়নাল বলেন, গ্রামের বাজার থেকে বড় চামড়া ৩৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি। গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচও আছে। কিন্তু আড়তে এসে ১৫০-২০০ টাকার বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে লাভ তো দূরের কথা, পুঁজি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে কাঁচা চামড়ার আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, একটি চামড়া কিনে পরিষ্কার করা, লবণ দেওয়া এবং কারখানায় পৌঁছাতে প্রায় ৪৫০ টাকা খরচ পড়ে। এ কারণে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যে দামে কিনেছেন, সে দামে আড়তদারদের পক্ষে কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
পুরনো চামড়া ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতি বছরই ঈদকে ঘিরে আশায় বুক বেঁধে বাজারে নামেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারের অস্থিরতা ও কম দামের কারণে শেষ পর্যন্ত অনেককেই লোকসান গুনতে হয়। জাতীয় সম্পদ হিসেবে পরিচিত কোরবানির চামড়ার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।