বৃহস্পতিবার
০৪ জুন ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো, ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়। এর মধ্যেই নতুন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলো।
চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর সদস্য ও অপারেটিভদের প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে শুধুমাত্র লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, লেবাননের কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘পাইলট জোন’ গড়ে তোলা হবে, যেখানে অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না। এসব অঞ্চলের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সেনাবাহিনীর হাতে।
এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে একটি আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েলও বৈরুতে বড় ধরনের হামলা চালাবে না।
তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে হিজবুল্লাহর অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সংগঠনটির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি দাবি করেছেন, কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি; বরং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকা সুরক্ষার বিষয়ে একটি সীমিত সমঝোতা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করেছেন, চলমান আলোচনা লেবাননে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতার লক্ষ্যে আগামী ২২ জুন আবারও আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।