রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শনিবার

০৬ জুন ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দেশ বর্তমানে একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা ‘চরচা’ আয়োজিত ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের দর্শন হলো ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, প্রশাসনিক সংস্কার এবং দেশীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সমান সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও মানুষের নাগালের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির পাশাপাশি অপচয়ও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই প্রকল্প সময়মতো গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর করপোরেট করহার কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। অন্যদিকে গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আগামী বাজেটকে বাস্তবমুখী, উৎপাদনশীল এবং সংস্কারমুখী হতে হবে। পাশাপাশি কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, আর্থিক খাতে সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।